গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদন

সৌর প্যানেল ছেড়ে এবার এআই ও রোবোটিকসে ঝুঁকছে চীন

বিশ্ববাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

সৌর প্যানেল বা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) পর এবার তাদের নজর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হার্ডওয়্যার ও উন্নতমানের রোবোটিকসের দিকে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। চীনের এ ব্যবসায়িক বৈশ্বিক সম্প্রসারণকে ‘গো গ্লোবাল ৩.০’ যুগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক জ্যাকুলিন ডুয়ের নেতৃত্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথাগত কম খরচের উৎপাদন এবং ইভি বা সৌর প্রযুক্তির মতো খাতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিল চীন। তবে এখন দেশটি বিশ্বমানের ডেটা সেন্টার ও উন্নতমানের রোবোটিকসের মতো উচ্চপ্রযুক্তির এআই সরবরাহের দিকে ঝুঁকছে।

এর একটি অন্যতম উদাহরণ হংকং ও হাংঝুভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবোটিকস। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৫ হাজার ৫০০টির বেশি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করেছে। যেখানে তাদের মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী টেসলা, ফিগার এআই ও অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের প্রত্যেকে মাত্র ১৫০টির মতো রোবট সরবরাহ করতে পেরেছে। গত বছর ইউনিট্রি রোবোটিকসের মোট রাজস্বের ৪৪ শতাংশই এসেছে আন্তর্জাতিক বিক্রয় থেকে।

তবে বিদেশী বাজারে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বিদেশী রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও ব্যাটারিতে ব্যবহৃত শক্তি রূপান্তরকারী ইনভার্টার আমদানিতেও নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটি।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভূরাজনৈতিক এসব চ্যালেঞ্জ ও বাণিজ্যনীতির ওপর চীনা কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

কম দামে দ্রুত পণ্য সরবরাহের যে সক্ষমতা তাদের রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের গুণগত মান ও বৈশ্বিক গ্রাহক সেবার বিশ্বাসযোগ্যতায় রূপান্তর করতে পারলেই তারা বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে।

আরও